২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আনার পর থেকে প্রতিবছরই নতুন মডেল উন্মোচন করে আসছে অ্যাপল। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নতুন আইফোন সিরিজ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অনলাইনে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে আইফোন ১৮-এর উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
গুঞ্জন সত্যি হলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই একসঙ্গে উন্মোচন করা হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন ‘আইফোন আলট্রা’। এর মধ্যে ভাঁজ করা আইফোনটিই হতে পারে এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। অন্যদিকে আইফোন ১৮, আইফোন ১৮ই এবং আইফোন ১৮ এয়ার উন্মোচন হতে পারে এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে।
নতুন সিইওর প্রথম উপস্থিতি
এবারের আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাসকে প্রথমবারের মতো মঞ্চে দেখা যেতে পারে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
আইফোন ১৮–এর দাম কত হতে পারে
নতুন আইফোনের দাম নিয়ে অবশ্য স্বস্তির খবর নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল চাহিদার কারণে বিশ্বজুড়ে র্যামের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে আইফোন ১৮-এর দামও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, আইফোন ১৮ প্রো-তে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের খরচ আইফোন ১৭ প্রোর তুলনায় ১৫০ ডলার বেশি হতে পারে। তবে উৎপাদন খরচ বাড়ার পুরোটাই যে ফোনের দামে যোগ হবে, তা নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো-র দাম হতে পারে ১ হাজার ৩৯৯ ডলার, অর্থাৎ গত বছরের মডেলের তুলনায় প্রায় ৩০০ ডলার বেশি।
অ্যাপল নিয়ে গবেষণা করা বিশ্লেষকেরাও কাছাকাছি পূর্বাভাস দিয়েছেন। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইনটুফাইভম্যাকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আইফোনের দাম আগের সংস্করণের তুলনায় ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
নকশা ও পর্দায় যেসব পরিবর্তন আসতে পারে
আইফোন ১৮ সিরিজের নকশা নিয়ে বরাবরের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি অ্যাপল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ ও আইফোন ১৮ প্রোতে থাকতে পারে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি পর্দা, আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে থাকতে পারে ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির পর্দা। নতুন আইফোনের পর্দা আগের মডেলের তুলনায় আরও উজ্জ্বল হতে পারে, পাশাপাশি ডায়নামিক আইল্যান্ডেও পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে।
বড় ব্যাটারি ব্যবহারের কারণে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স আগের মডেলের তুলনায় কিছুটা মোটা ও ভারী হতে পারে। চীনের বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ফোনটির পুরুত্ব প্রায় ০.২৫ মিলিমিটার এবং ওজন প্রায় ৭ গ্রাম বাড়তে পারে। পরিবর্তন খুব বেশি না হলেও আইফোনের সবচেয়ে বড় মডেলটিতে বাড়তি ওজন কিছু ব্যবহারকারীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চিপ, র্যাম ও কানেক্টিভিটিতে পরিবর্তন
আইফোন ১৮ সিরিজের যন্ত্রাংশেও আসতে পারে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য বেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার সিরিজের সব মডেলেই ১২ গিগাবাইট র্যাম ব্যবহার করতে পারে অ্যাপল। আগের বছরগুলোয় শুধু প্রো মডেলে ১২ গিগাবাইট র্যাম থাকলেও সাধারণ আইফোনে ছিল ৮ গিগাবাইট।
নতুন আইফোনে এ২০ ও এ২০ প্রো চিপ ব্যবহারের গুঞ্জনও রয়েছে। উন্নত মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগের জন্য থাকতে পারে নতুন সি২ মডেম এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৫জি সংযোগের সুবিধা। ওয়াই-ফাইয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে যুক্ত হতে পারে এন২ চিপও।
ক্যামেরায় বড় উন্নয়নের ইঙ্গিত
আইফোন ১৮ প্রোতে ক্যামেরা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্লুমবার্গের সাংবাদিক মার্ক গুরম্যান। তাঁর মতে, এটি হতে পারে আইফোনের ইতিহাসে ক্যামেরার অন্যতম বড় উন্নয়ন।

