মালয়েশিয়ায় কোন কাজের চাহিদা বেশি, বেতন কত জেনে নিন

By
Mosabbir Masud
প্রকাশিত:
মালয়েশিয়ায় কোন কাজের চাহিদা বেশি, বেতন কত জেনে নিন

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অনেকে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন, আবার অনেকেই যেতে ইচ্ছুক। তবে অনেকেই জানেন না মালয়েশিয়ায় বর্তমানে কোন কাজের চাহিদা বেশি, কোন ভিসায় গেলে বেতন বেশি পাওয়া যাবে বা কোন কাজে দক্ষতা থাকলে ভালো আয় করা সম্ভব। বিদেশে যাওয়ার আগে এসব বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি, যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার কর্মী ভিসা বন্ধ থাকলেও দেশটির শ্রমবাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন আবার বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া। এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে মালয়েশিয়ায় কোন কাজের চাহিদা বেশি, কোন কাজের বেতন কত, মালয়েশিয়া যেতে খরচ কেমন এবং সবশেষে হালনাগাদ রিঙ্গিত-টাকার রেট অনুযায়ী প্রতিটি কাজের বেতন বাংলাদেশি টাকায় কত হয়।

মালয়েশিয়ায় কোন কাজের চাহিদা বেশি

মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষিভিত্তিক কাজে, বিশেষ করে পাম অয়েল খাতে। মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় এই খাতে নিয়মিত কর্মী নিয়োগ হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা রয়েছে, যেমন—

  • ইলেকট্রিশিয়ান
  • মেকানিক্যাল
  • ড্রাইভিং
  • ক্লিনার
  • ফ্যাক্টরি
  • কনস্ট্রাকশন
  • হোটেল বা রেস্টুরেন্ট
  • বিভিন্ন ধরনের মিস্ত্রি (টাইলস, রাজমিস্ত্রি, পাইপ ফিটিংস, গ্লাস ফিটিং)
  • গবাদি পশুপালন

যাদের এসব কাজে আগে থেকে দক্ষতা রয়েছে, তারা নিজ দক্ষতা অনুযায়ী ভিসা বেছে নিলে সহজে কাজ পাওয়ার পাশাপাশি বেতনও তুলনামূলক বেশি পান।

মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে

মালয়েশিয়ায় মূলত দুই ধরনের ভিসায় যাওয়া যায়—ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ও টুরিস্ট ভিসা।

  • ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: খরচ পড়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা, মেয়াদ থাকে ৩ বছর পর্যন্ত।
  • টুরিস্ট ভিসা: খরচ পড়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো, মেয়াদ মাত্র ৩ মাস। এই সময়ের মধ্যে কাজ জোগাড় করতে না পারলে দেশে ফেরত আসতে হয়।

সামর্থ্য ও ঝুঁকি বিবেচনা করে যে কেউ যেকোনো একটি ভিসা বেছে নিতে পারেন।

মালয়েশিয়ায় কোন কাজের বেতন কত

রিঙ্গিত থেকে টাকার রেট প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। বর্তমানে ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের মান বাংলাদেশি প্রায় ২৮ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। সেই হিসাবে বিভিন্ন কাজের আনুমানিক মাসিক বেতন নিচে তুলে ধরা হলো।

ইলেকট্রনিক্স কাজের বেতন ২,৫০০ থেকে ৩,৮০০ রিঙ্গিত, যা বর্তমান রেটে বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় প্রায় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

ড্রাইভিং কাজের বেতন ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ড্রাইভিং ভিসায় যেতে হলে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ি চালনায় দক্ষতা থাকা আবশ্যক।

ক্লিনার কাজের বেতন ২,২০০ থেকে ৩,৫০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬২ হাজার থেকে ৯৮ হাজার টাকা। রোড ক্লিনার, গ্লাস ক্লিনার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ক্লিনার ও মেডিকেল ক্লিনার—এই কয়েক ধরনের ক্লিনার ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে রোড ক্লিনারের কাজ তুলনামূলক কষ্টসাধ্য হলেও বেতন কিছুটা বেশি।

কনস্ট্রাকশন কাজের বেতন ২,৮০০ থেকে ৪,০০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এই খাতে দক্ষতার ওপর বেতন অনেকাংশে নির্ভর করে; অভিজ্ঞতা না থাকলে শুরুতে বেতন কম হতে পারে।

মিস্ত্রি কাজের বেতন ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০ হাজার থেকে ৯৮ হাজার টাকা। টাইলস মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, পাইপ ফিটিংস মিস্ত্রি ও গ্লাস ফিটিং মিস্ত্রি—এসব ক্ষেত্রে দক্ষতা না থাকলে মিস্ত্রির সহকারী বা লেবারের কাজ করতে হতে পারে।

হোটেল বা রেস্টুরেন্ট কাজের বেতন ২,৩০০ থেকে ৩,২০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৪ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। সরাসরি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেলে তুলনামূলক ভালো বেতন পাওয়ার সুযোগ থাকে।

ফ্যাক্টরি কাজের বেতন ২,০০০ থেকে ২,৮০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৬ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকা। মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি ফ্যাক্টরি ভিসায় গেলে বেতন কিছুটা ভালো পাওয়া যায়।

শেষ কথা

মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন খাতে দক্ষ ও অদক্ষ—উভয় ধরনের কর্মীর চাহিদাই রয়েছে। তবে যেকোনো কাজে যাওয়ার আগে নিজের দক্ষতা, ভিসার ধরন, খরচ এবং সম্ভাব্য বেতন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রিঙ্গিতের রেট ওঠানামা করে বলে টাকার অঙ্কও সময়ভেদে কিছুটা কমবেশি হতে পারে।