বাসার ইন্টারনেট স্পিড কম? ঠিক করুন এই ৫ উপায়ে

বাড়িতে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে গেলে সব সময় নতুন সংযোগ নেওয়া বা টেকনিশিয়ান ডাকার প্রয়োজন হয় না। রাউটারের অবস্থান, ব্যবহৃত ব্যান্ড, সংযুক্ত ডিভাইস এবং রাউটারের বয়সের মতো কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করলেই অনেক সময় সমস্যার …

Avatar
Written By : Mosabbir Masud

Updated Now:

বুকমার্ক Prefer Masudwap on Google
বাসার ইন্টারনেট স্পিড কম? ঠিক করুন এই ৫ উপায়ে
বাসার ইন্টারনেট স্পিড কম? ঠিক করুন এই ৫ উপায়ে

বাড়িতে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে গেলে সব সময় নতুন সংযোগ নেওয়া বা টেকনিশিয়ান ডাকার প্রয়োজন হয় না। রাউটারের অবস্থান, ব্যবহৃত ব্যান্ড, সংযুক্ত ডিভাইস এবং রাউটারের বয়সের মতো কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করলেই অনেক সময় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

১. রাউটার সঠিক জায়গায় রাখুন

রাউটার সঠিক জায়গায় রাখা জরুরি। বাড়ির মাঝামাঝি, খোলা ও কিছুটা উঁচু জায়গায় রাউটার রাখলে বিভিন্ন দিকে ভালোভাবে সিগন্যাল ছড়াতে পারে। মোটা দেয়াল, বড় আলমারি বা ভারী আসবাবের আড়ালে রাউটার রাখা উচিত নয়। মাইক্রোওয়েভসহ কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকেও রাউটার দূরে রাখা ভালো।

২. প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্যান্ড বেছে নিন

সম্ভব হলে কাছাকাছি থাকা ডিভাইসের জন্য 5GHz ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং ও এইচডি ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মতো কাজে এটি তুলনামূলক ভালো গতি দিতে পারে। তবে 5GHz-এর পরিসর 2.4GHz-এর চেয়ে কম হওয়ায় দূরের ঘরে থাকা ডিভাইসের ক্ষেত্রে 2.4GHz বেশি কার্যকর হতে পারে।

৩. রাউটার রিবুট করে দেখুন

ওয়াই-ফাই হঠাৎ ধীর হয়ে গেলে রাউটার রিবুট করেও দেখা যেতে পারে। রাউটার বন্ধ করে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আবার চালু করলে সাময়িক কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে বারবার একই সমস্যা হলে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

৪. অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করুন

রাউটারে সংযুক্ত অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলোও বিচ্ছিন্ন করা যেতে পারে। রাউটারের অ্যাপ বা সেটিংস থেকে সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা দেখে পুরোনো ফোন, ট্যাব, স্মার্ট টিভি বা প্রয়োজন নেই এমন ডিভাইস সরিয়ে দিলে নেটওয়ার্কের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।

৫. রাউটারের বয়স যাচাই করুন

রাউটারটি অনেক পুরোনো কি না, সেটিও যাচাই করা দরকার। পুরোনো রাউটার নতুন প্রজন্মের বেশি সংখ্যক ডিভাইস বা উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ সামলাতে সক্ষম নাও হতে পারে। তবে রাউটার বদলানোর আগে বর্তমান রাউটারের সক্ষমতা ও ইন্টারনেট প্যাকেজের গতি যাচাই করা উচিত।

সমস্যা না মিটলে কী করবেন

এসব করার পরও ওয়াই-ফাইয়ের গতি স্বাভাবিক না হলে সমস্যা রাউটারে নাও থাকতে পারে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের (আইএসপি) নেটওয়ার্ক বা সংযোগের সমস্যার কারণেও গতি কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযোগ পরীক্ষা করানো যেতে পারে।


প্রায়জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

১. ওয়াই-ফাই রাউটার কোথায় রাখা সবচেয়ে ভালো? বাড়ির মাঝামাঝি, খোলা ও কিছুটা উঁচু জায়গায় রাউটার রাখা সবচেয়ে ভালো। দেয়াল, আলমারি বা ভারী আসবাবের আড়ালে রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

২. 2.4GHz আর 5GHz ব্যান্ডের মধ্যে পার্থক্য কী? 5GHz ব্যান্ড তুলনামূলক বেশি গতি দেয় কিন্তু এর সিগন্যাল পরিসর কম, তাই কাছাকাছি ডিভাইসের জন্য উপযোগী। 2.4GHz-এর গতি কিছুটা কম হলেও এটি দূরের ঘর পর্যন্ত ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে।

৩. রাউটার কতদিন পরপর রিবুট করা উচিত? নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই, তবে ওয়াই-ফাই ধীর মনে হলে বা মাঝেমধ্যে সপ্তাহে একবার রাউটার বন্ধ করে কয়েক মিনিট পর আবার চালু করলে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা ঠিক হয়ে যেতে পারে।

৪. অনেক ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে কি ওয়াই-ফাই স্লো হয়ে যায়? হ্যাঁ, একসঙ্গে অনেক ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে নেটওয়ার্কের ওপর চাপ পড়ে এবং গতি কমে যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় বা অচেনা ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করলে এই সমস্যা কিছুটা কমানো যায়।

৫. রাউটার পুরোনো হলে কি বদলাতে হবে? পুরোনো রাউটার নতুন প্রজন্মের বেশি ডিভাইস বা উচ্চগতির ইন্টারনেট সামলাতে না-ও পারে। তবে বদলানোর আগে বর্তমান রাউটারের সক্ষমতা ও ইন্টারনেট প্যাকেজের গতি যাচাই করে দেখা উচিত।

৬. রাউটার ঠিকঠাক থাকার পরও ইন্টারনেট স্লো হলে কী করব? এমন হলে সমস্যা রাউটারে নয়, বরং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের (আইএসপি) নেটওয়ার্কে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযোগ পরীক্ষা করানো ভালো।

Related Posts

More from ইনফো

সঙ্গে থাকুন ➥