পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। আর পৃথিবীর উৎকৃষ্ট নেয়ামতের মধ্যে সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ যাকে চান তাকেই সন্তান দান করেন। অনেক মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারেন না। আর অনেকে আবার সন্তান জন্মদানে অনীহা দেখান। এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী — তা নিয়েই আজকের এই আলোচনা।
জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ইসলাম কী বলে?
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন — আমার বাচ্চার বয়স ১৪ মাস, আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়েছিল। আমি আগামী ৪-৫ বছর বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না। জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্লান্ট, কপাটি — এসব পদ্ধতি ইসলামে জায়েজ হবে কিনা?
শায়খ আহমাদুল্লাহর জবাব
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি সিজারে বাচ্চা হয় এবং ডাক্তার বলেন এবার বাচ্চা নিলে মা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, তাহলে অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়।
স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ কি ইসলামে হারাম?
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ যেমন বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। ইসলামে স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া বৈধ।
জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ইসলামের মূল বিধানগুলো
স্থায়ী পদ্ধতি নিষেধ: স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমির মতো পদ্ধতি গ্রহণ করা জায়েজ নয়।
সাময়িক বিরতি বৈধ: স্ত্রীর অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে সাময়িকভাবে সন্তান গ্রহণে বিরতি নেওয়া জায়েজ।
রিজিকের ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ অনুচিত: "কী খাওয়াব" বা "ভবিষ্যতে কীভাবে চালাব" — এজাতীয় পার্থিব ও আর্থিক দুশ্চিন্তায় সন্তান না নেওয়া বা জন্মনিয়ন্ত্রণ করা অনুচিত। আল্লাহতায়ালাই প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের জিম্মাদার।
সংক্ষেপে ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিধান
| পদ্ধতি | ইসলামের বিধান |
|---|---|
| স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ / টিউবেকটমি | সম্পূর্ণ হারাম |
| সাময়িক বিরতি (চিকিৎসাগত কারণে) | জায়েজ |
| রিজিকের ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ | অনুচিত ও নিরুৎসাহিত |
| ইমপ্লান্ট / কপাটি (সাময়িক) | যৌক্তিক কারণে বৈধ হতে পারে |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ কি জায়েজ? উত্তর: সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ বৈধ কারণে জায়েজ, তবে স্থায়ী পদ্ধতি সম্পূর্ণ হারাম।
প্রশ্ন: সিজারের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি? উত্তর: হ্যাঁ, ডাক্তার যদি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বলেন তাহলে সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ করা জায়েজ।
প্রশ্ন: টিউবেকটমি বা বন্ধ্যাকরণ কি ইসলামে হারাম? উত্তর: হ্যাঁ, স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
প্রশ্ন: অর্থনৈতিক কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা কি জায়েজ? উত্তর: রিজিকের ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা ইসলামে সমর্থনযোগ্য নয়, কারণ আল্লাহই প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের জিম্মাদার।
প্রশ্ন: ইমপ্লান্ট বা কপাটি ব্যবহার করা কি জায়েজ? উত্তর: এগুলো সাময়িক পদ্ধতি, তাই যৌক্তিক ও বৈধ কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে ব্যবহার করা জায়েজ হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অবলম্বনে। যেকোনো ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নিন।
