জন্ম নিবন্ধন সনদ আসল কি না, নিবন্ধনে দেওয়া তথ্য সঠিক রয়েছে কি না, তা এখন অনলাইনে যাচাই করা যায়। বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্য যাচাই করা সম্ভব। এ জন্য সাধারণত কম্পিউটার বা স্মার্টফোন থেকেই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্টের আবেদন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি কিংবা সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়। তাই সনদে থাকা তথ্য ঠিক আছে কি না এবং নিবন্ধনটি অনলাইন ডেটাবেজে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে পুরোনো জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অনলাইনে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
যাচাইয়ের জন্য কী কী তথ্য লাগবে
| প্রয়োজনীয় তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম নিবন্ধন নম্বর | সনদে থাকা ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন নম্বর |
| জন্মতারিখ | বছর-মাস-দিন (YYYY-MM-DD) ফরম্যাটে |
| ডিভাইস | কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ব্রাউজার (আলাদা অ্যাপ লাগে না) |
| ইন্টারনেট সংযোগ | সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য |
জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে যাচাই করার ধাপ
জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। সরাসরি যাচাইয়ের লিংক: https://everify.bdris.gov.bd/
প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে everify.bdris.gov.bd ঠিকানায় প্রবেশ করুন। এটি জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাইয়ের সরকারি পোর্টাল।
দ্বিতীয় ধাপ: জন্ম নিবন্ধন নম্বর লিখুন
ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ঘরে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন নম্বর লিখুন। নম্বরটি সনদে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
তৃতীয় ধাপ: জন্মতারিখ দিন
নির্ধারিত ঘরে জন্মতারিখ লিখুন। এখানে তারিখের ফরম্যাট হবে বছর-মাস-দিন (YYYY-MM-DD)। যেমন, জন্মতারিখ ২৫ আগস্ট ২০০৫ হলে লিখতে হবে 2005-08-25।
চতুর্থ ধাপ: ক্যাপচা পূরণ করুন
ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ক্যাপচা বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রশ্নের উত্তর দিন। এরপর Search বাটনে ক্লিক করুন।
পঞ্চম ধাপ: জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন
জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ সঠিক হলে নিবন্ধনের ডেটাবেজে থাকা তথ্য প্রদর্শিত হবে। সেখানে নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম, জন্মতারিখ, জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং উপলভ্য অন্যান্য তথ্য সনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। কোনো তথ্যের অমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
মোবাইল দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যাবে কি?
হ্যাঁ, স্মার্টফোন ব্যবহার করেই জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়। এর জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। মোবাইলের ব্রাউজার থেকে সরকারি যাচাই পোর্টালে প্রবেশ করে একই নিয়মে নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে তথ্য যাচাই করা যাবে।
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে না পাওয়া গেলে কী করবেন?
অনেক সময় সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড পাওয়া যায় না। এমন হলে প্রথমে নিবন্ধন নম্বরের প্রতিটি অঙ্ক এবং জন্মতারিখ আবার যাচাই করুন। জন্মতারিখ ভুল ফরম্যাটে লেখা হয়েছে কি না, সেটিও দেখুন।
তারপরও তথ্য না পাওয়া গেলে তিনটি সম্ভাবনা বিবেচনা করুন:
- আপনার জন্ম নিবন্ধনটি পুরোনো হতে পারে অথবা অনলাইন ডেটাবেজে রেকর্ডটি পাওয়া যাচ্ছে না
- সনদে থাকা নিবন্ধন নম্বর বা জন্মতারিখের সঙ্গে ডেটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যের অমিল থাকতে পারে
- অনলাইন সেবায় সাময়িক সমস্যা থাকলেও তথ্য যাচাই করা সম্ভব নাও হতে পারে
এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের জন্ম নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। তাঁরা পুরোনো রেকর্ড অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন বা তথ্য হালনাগাদের বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কি কোনো টাকা লাগে?
সরকারি অনলাইন যাচাই পোর্টালে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য দেখতে সাধারণত কোনো ফি লাগে না। তবে নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন, নতুন সনদ সংগ্রহ বা অন্য কোনো সেবার জন্য আলাদা সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই যাচাই এবং সংশোধনের প্রক্রিয়াকে এক করে দেখা উচিত নয়।
শুধু নাম বা জন্মতারিখ দিয়ে কি যাচাই করা যায়?
সরকারি অনলাইন যাচাই পদ্ধতিতে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ, দুটিই প্রয়োজন। শুধু নাম কিংবা শুধু জন্মতারিখ দিয়ে এই পোর্টালে সাধারণভাবে নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা যায় না।
জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের সরকারি ওয়েবসাইট
জন্ম নিবন্ধন যাচাই, নতুন নিবন্ধনের আবেদন ও সংশোধনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
| উদ্দেশ্য | ওয়েবসাইট |
|---|---|
| জন্ম নিবন্ধন যাচাই | everify.bdris.gov.bd |
| জন্ম নিবন্ধনের আবেদন | bdris.gov.bd |
| জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের ওয়েবসাইট | orgbdr.gov.bd |
প্রয়োজনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের ১৬১৫২ নম্বরে যোগাযোগ করে নির্দেশনা নেওয়া যেতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে যাচাই করার ওয়েবসাইট কোনটি? সরকারি যাচাই পোর্টাল হলো everify.bdris.gov.bd। এখানে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে তথ্য যাচাই করা যায়।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কত সংখ্যার নম্বর লাগে? সরকারি অনলাইন যাচাই পোর্টালে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হয়।
মোবাইল দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়? হ্যাঁ। মোবাইলের ব্রাউজার ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করেই জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়।
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে পাওয়া না গেলে কী করবেন? প্রথমে নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ যাচাই করুন। এরপরও তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কি টাকা লাগে? সরকারি অনলাইন পোর্টালে তথ্য যাচাই সাধারণত বিনা মূল্যে করা যায়। তবে সংশোধন বা অন্যান্য সেবার জন্য প্রযোজ্য সরকারি ফি থাকতে পারে।
শেষ কথা
জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে যাচাই করার জন্য ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন নম্বর ও সঠিক জন্মতারিখ প্রয়োজন। সরকারি পোর্টালে তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নিবন্ধনের রেকর্ড যাচাই করা যায়। তবে অনলাইনে তথ্য পাওয়া না গেলেই সনদটি জাল বা অবৈধ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয় থেকে তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

