হঠাৎ বাইকের মাইলেজ কমে গেছে? কারণ জানুন

জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইক থেকে ভালো মাইলেজ পাওয়ার বিষয়টি চালকদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক সময় বাইকে বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকলেও আগের তুলনায় পেট্রোল বেশি খরচ হতে দেখা যায়। এর পেছনে য…

Avatar
Written By : Mosabbir Masud

Updated Now:

বুকমার্ক Prefer Masudwap on Google
হঠাৎ বাইকের মাইলেজ কমে গেছে? কারণ জানুন

জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইক থেকে ভালো মাইলেজ পাওয়ার বিষয়টি চালকদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক সময় বাইকে বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকলেও আগের তুলনায় পেট্রোল বেশি খরচ হতে দেখা যায়। এর পেছনে যেমন রয়েছে বাইক চালানোর কিছু ভুল অভ্যাস, তেমনই দায়ী হতে পারে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব।


তাই মাইলেজ কমে যাওয়ার কারণগুলো জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি বাইকের কর্মক্ষমতাও ভালো রাখা সম্ভব।

১. বাইক চালানোর অভ্যাসে ভুল

বারবার জোরে অ্যাক্সিলারেটর ঘোরানো, হঠাৎ ব্রেক কষা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিনের গতি বাড়ানোর অভ্যাসে জ্বালানি বেশি খরচ হতে পারে। একইভাবে দীর্ঘক্ষণ ক্লাচ চেপে রেখে বাইক চালানোও ঠিক নয়। এতে বাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। জ্বালানি সাশ্রয় করতে চেষ্টা করুন মসৃণ গতিতে বাইক চালাতে। রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে গতি বাড়ানো-কমানো এড়িয়ে চলুন।

২. নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহার

বাইকের পারফরম্যান্স ও জ্বালানি খরচের ওপর পেট্রোলের মানের প্রভাব থাকতে পারে। নিম্নমানের বা দূষিত জ্বালানি ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফলে বাইকের স্বাভাবিক পারফরম্যান্স ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া ভালো। বাইকের প্রস্তুতকারক যে ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে, সেটিও মেনে চলুন।

৩. ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনে অবহেলা

বাইকের ইঞ্জিন সচল রাখতে ইঞ্জিন অয়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্ধারিত সময় বা দূরত্ব অতিক্রম করার পরও ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন না করলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে ইঞ্জিনের ভেতরে ঘর্ষণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বাইকের ম্যানুয়াল অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর ইঞ্জিন অয়েল পরীক্ষা ও পরিবর্তন করুন। ইঞ্জিন অয়েলের পরিমাণও ঠিক আছে কি না, সেদিকে নজর রাখুন।

৪. এয়ার ফিল্টার নোংরা হয়ে যাওয়া

ইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় বাতাস প্রবেশে সাহায্য করে এয়ার ফিল্টার। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে এতে ধুলোবালি জমে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। ফলে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। ধুলাবালিপূর্ণ রাস্তায় নিয়মিত বাইক চালালে এয়ার ফিল্টারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বাইকের নির্দেশিকা অনুযায়ী ফিল্টার পরিষ্কার করুন বা প্রয়োজন হলে বদলে নিন।

৫. টায়ারে বাতাসের চাপ কম থাকা

বাইকের টায়ারে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাতাস থাকলে রাস্তার সঙ্গে টায়ারের প্রতিরোধ বাড়তে পারে। এতে বাইক চালাতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয় এবং জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে। পাশাপাশি কম টায়ার প্রেসার বাইকের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই নিয়মিত টায়ারের বাতাস পরীক্ষা করুন। কতটা চাপ রাখা প্রয়োজন, তা বাইকের ম্যানুয়াল বা প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা থেকে জেনে নিন। সম্ভব হলে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর এবং দীর্ঘ যাত্রার আগে টায়ারের চাপ পরীক্ষা করুন।

৬. সময়মতো সার্ভিসিং না করানো

বাইকের ছোটখাটো সমস্যা অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করালে সেই সমস্যা বড় হতে পারে। স্পার্ক প্লাগের ত্রুটি, ব্রেক আটকে থাকা, চেইনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া কিংবা ইঞ্জিনের অন্য কোনো সমস্যার কারণে বাইকের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমতে পারে। নির্ধারিত সময় অন্তর সার্ভিসিং করালে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। হঠাৎ মাইলেজ কমে গেলে শুধু চালানোর অভ্যাস নয়, বাইকের যান্ত্রিক অবস্থাও পরীক্ষা করানো উচিত।

৭. অতিরিক্ত গতি ও ভুল গিয়ারে বাইক চালানো

অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালালে বাতাসের বাধা বাড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পায়। আবার কম গতিতে বেশি গিয়ার ব্যবহার করলে কিংবা বেশি গতিতে উপযুক্ত গিয়ার না বদলালে ইঞ্জিনের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সব বাইকে একই গতিসীমা কার্যকর এমন নয়। বাইকের ধরন, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, রাস্তার অবস্থা ও ট্রাফিক অনুযায়ী নিরাপদ গতিতে চলুন। ইঞ্জিনের শব্দ ও গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গিয়ার পরিবর্তন করুন।

৮. দীর্ঘক্ষণ রোদে বাইক পার্ক করে রাখা

দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে বাইক রাখলে ফুয়েল ট্যাঙ্ক ও অন্যান্য অংশের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে শুধু রোদে পার্ক করে রাখলেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেট্রোল বাষ্পীভূত হয়ে মাইলেজ কমে যাবে এমন দাবি সব বাইকের ক্ষেত্রে সঠিক নয়। আধুনিক বাইকের জ্বালানি ব্যবস্থা বাষ্পীভবন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করে। তবু সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত জায়গায় বাইক পার্ক করুন। জ্বালানির গন্ধ পাওয়া, ট্যাঙ্ক বা পাইপে লিক দেখা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে পেট্রোল কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত মেকানিকের সাহায্য নিন।

মাইলেজ বাড়াতে কী করবেন?

বাইকের মাইলেজ ভালো রাখতে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলুন। নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল ও এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা করুন, টায়ারে সঠিক চাপ রাখুন, সময়মতো সার্ভিসিং করান এবং মসৃণ গতিতে বাইক চালান। অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রাখাও এড়িয়ে চলুন।

সব কিছু ঠিক থাকার পরও মাইলেজ হঠাৎ অনেকটা কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। জ্বালানি লিক, ব্রেকের সমস্যা, স্পার্ক প্লাগের ত্রুটি বা ইঞ্জিনের অন্য কোনো সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষ মেকানিক দিয়ে বাইক পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

Related Posts

সঙ্গে থাকুন ➥