প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার কোড ২০২৬: ব্যালেন্স, ইউনিট ও ভোল্টেজ চেক করার সম্পূর্ণ গাইড

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের সব কোড এক জায়গায় — ব্যালেন্স চেক (801), ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স (810), ভোল্টেজ (807) সহ সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

prepaid meter code bangladesh 2026

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। এই মিটারের অন্যতম সুবিধা হলো গ্রাহক নিজেই নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং যেকোনো সময় ব্যালেন্স, ইউনিট ও খরচের তথ্য জানতে পারেন।

তবে অনেকেই জানেন না যে মিটারের কিপ্যাডে নির্দিষ্ট কিছু কোড ডায়াল করেই এসব তথ্য দেখা যায়। প্রিপেইড মিটারের কোডগুলো জানা থাকলে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়, ব্যালেন্স শেষ হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া যায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সও ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

এই গাইডে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোডগুলো এবং সেগুলোর ব্যবহার বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।


এক নজরে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ কোড

কাজের ধরনকোড
মিটার ব্যালেন্স চেক801
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স810
অবশিষ্ট ইউনিট দেখুন800
বর্তমান লোড (কিলোওয়াট)869
মিটার নম্বর দেখুন100
গত মাসের খরচ702
চলতি মাসের খরচ922
অ্যালার্ম বন্ধ812
বর্তমান ভোল্টেজ807
মিটার চালু/বন্ধ868

প্রিপেইড মিটারের কোড ব্যবহারের নিয়ম

যেকোনো কোড ব্যবহার করার আগে সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরি। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই যেকোনো তথ্য দেখা যাবে।

ধাপ ১: মিটারের কিপ্যাডের সামনে যান। ধাপ ২: যে তথ্য দেখতে চান তার নির্দিষ্ট কোডটি লিখুন। ধাপ ৩: Enter অথবা OK বাটন চাপুন। ধাপ ৪: কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। ধাপ ৫: মিটারের ডিসপ্লেতে কাঙ্ক্ষিত তথ্য দেখতে পাবেন।


মিটার ব্যালেন্স চেক করার কোড — 801

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বর্তমান ব্যালেন্স জানার। অনেক সময় ব্যালেন্স কমে গেলেও তা খেয়াল করা হয় না, ফলে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মিটারের বর্তমান ব্যালেন্স জানতে কিপ্যাডে 801 লিখে Enter বাটন চাপুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডিসপ্লেতে অবশিষ্ট টাকার পরিমাণ দেখা যাবে।

কোড: 801


ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার কোড — 810

রাতের বেলা বা ছুটির দিনে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে রিচার্জ করা সম্ভব হয় না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স সুবিধা অত্যন্ত কার্যকর।

যেসব মিটারে এই সুবিধা চালু রয়েছে, সেগুলোতে 810 কোড ব্যবহার করে জরুরি ব্যালেন্স নেওয়া যায়। পরবর্তীতে নতুন রিচার্জ করলে সেই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়ে যায়।

কোড: 810


অবশিষ্ট ইউনিট দেখার কোড — 800

শুধু ব্যালেন্স জানলেই যথেষ্ট নয়, বর্তমানে কত ইউনিট বিদ্যুৎ অবশিষ্ট আছে সেটাও জানা জরুরি। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

মিটারে 800 কোড লিখে Enter চাপলে অবশিষ্ট ইউনিটের পরিমাণ দেখা যাবে।

কোড: 800


বর্তমান ভোল্টেজ দেখার কোড — 807

বাসায় ভোল্টেজ কম বা বেশি হলে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষত ফ্রিজ, এসি ও টেলিভিশনের মতো দামি যন্ত্রপাতি নিম্ন বা অতিরিক্ত ভোল্টেজে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।

বর্তমান ভোল্টেজ জানতে মিটারে 807 কোড লিখুন।

কোড: 807


বর্তমান লোড বা কিলোওয়াট দেখার কোড — 869

আপনার বাসা বা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কত লোড ব্যবহার হচ্ছে তা জানতে চাইলে এই কোডটি কাজে লাগবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার কারণ খুঁজে বের করতে এটি বেশ কার্যকর।

বর্তমান লোড দেখতে মিটারে 869 কোড ব্যবহার করুন।

কোড: 869


মিটার নম্বর দেখার কোড — 100

বিকাশ, নগদ বা অনলাইনে রিচার্জ করার সময় মিটার নম্বর প্রয়োজন হয়। অভিযোগ বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই নম্বর দরকার হয়।

মিটারের নম্বর দেখতে 100 কোড লিখে Enter চাপুন।

কোড: 100


গত মাসের বিদ্যুৎ খরচ দেখার কোড — 702

গত মাসে কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন বা কত টাকা খরচ হয়েছে তা জানতে 702 কোড ডায়াল করুন।

কোড: 702


চলতি মাসের বিদ্যুৎ খরচ দেখার কোড — 922

মাস শেষ হওয়ার আগেই বর্তমান মাসে কত বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে তা জানলে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। চলতি মাসের খরচ দেখতে 922 কোড ব্যবহার করুন।

কোড: 922


মিটারের অ্যালার্ম বন্ধ করার কোড — 812

ব্যালেন্স কমে গেলে অনেক প্রিপেইড মিটার সতর্কতামূলক শব্দ বা অ্যালার্ম দিতে শুরু করে। সাময়িকভাবে অ্যালার্ম বন্ধ করতে 812 কোড ব্যবহার করা যায়।

কোড: 812


মিটার চালু বা বন্ধ করার কোড — 868

কিছু স্মার্ট প্রিপেইড মিটারে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে মিটার চালু বা বন্ধ করার সুবিধা রয়েছে। সেক্ষেত্রে 868 কোড ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের মিটারে এই সুবিধা নাও থাকতে পারে।

কোড: 868


বিদ্যুৎ খরচ কমানোর কিছু পরামর্শ

নিয়মিত ব্যালেন্স ও ইউনিট পর্যবেক্ষণ করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • প্রতিদিন একবার কোড 800 দিয়ে অবশিষ্ট ইউনিট চেক করুন
  • কোড 869 দিয়ে বর্তমান লোড দেখে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখুন
  • কোড 922 দিয়ে চলতি মাসের খরচ নজরে রাখুন
  • অপ্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ুন
  • ব্যালেন্স একেবারে শেষ হওয়ার আগেই রিচার্জ করুন

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

উল্লেখিত কোডগুলো দেশের অধিকাংশ প্রিপেইড মিটারে কাজ করলেও কিছু মিটার মডেল ও বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ক্ষেত্রে কোডের ভিন্নতা থাকতে পারে। কোনো কোড কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস বা কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স কীভাবে দেখব? মিটারের কিপ্যাডে 801 লিখে Enter চাপুন। ডিসপ্লেতে অবশিষ্ট ব্যালেন্স দেখাবে।

প্রিপেইড মিটারে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কীভাবে নেব? 810 কোড ডায়াল করুন। পরবর্তী রিচার্জের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়ে যাবে।

মিটারের ভোল্টেজ কীভাবে চেক করব? 807 কোড লিখে Enter চাপলে বর্তমান ভোল্টেজ দেখা যাবে।

মিটার নম্বর না জানলে কী করব? মিটারের কিপ্যাডে 100 লিখে Enter চাপুন, মিটার নম্বর দেখা যাবে।

মিটারের অ্যালার্ম বন্ধ করব কীভাবে? 812 কোড ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে অ্যালার্ম বন্ধ হয়ে যাবে।


উপসংহার

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ কোডগুলো জানা থাকলে ব্যালেন্স, ইউনিট, ভোল্টেজ, মিটার নম্বর এবং বিদ্যুৎ খরচের তথ্য খুব সহজেই জানা যায়। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সম্ভব হয়।

কোডগুলো একটি কাগজে লিখে মিটারের পাশে রেখে দিন — প্রয়োজনের সময় কাজে আসবে।

আর্টিকেলটি কাজে লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান।

আরো পড়ুন